বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >>আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাসে স্বজনদের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনের বিরুদ্ধে।
এদিকে, ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার কথা অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ শাহিন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসামিকে চালান দিয়েছি, টাকা নেয়ার প্রশ্ন ওঠে না। আমার নামে অন্য কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে সে দায়িত্ব আমার না।’
পরবর্তীতে আসামিকে না ছেড়ে কোর্টে প্রেরণ করায় স্বজনদের চাপে টাকা ফেরত দেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী আসামির স্বজনরা জানান, একটি রাজনৈতিক মামলায় ১২ ডিসেম্বরে পৌর শহরের চন্ডিবের গ্রামের মস্তু মিয়ার ছেলে সুজন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার পর সুজনের স্বজনরা থানায় এসে কথা বললে ওসি ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে শ্রীনগর ইউনিয়নের যুবদল নেতা জাকির হোসেনের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয় ওসি মোহাম্মদ শাহিনকে। কিন্তু টাকা নেয়ার পরও ওসি সুজনকে না ছেড়ে কিশোরগঞ্জ কোর্টে পাঠান। ওসি কথা না রাখায় সুজনের স্বজনরা ওসির কাছে টাকা ফেরত চাইলে, তিনি টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করেন।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল জানান, ওসি শাহিন দায়িত্ব নেয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আসে। ওইসব অভিযোগের পর্যাপ্ত প্রমাণিত না থাকায় কথা বলেননি। কিন্তু সুজনের স্বজনদের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ১৬ ডিসেম্বর ওসিকে বিষয়টি অবগত করে সমাধানের জন্য। শেষ পর্যন্ত গতকাল বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগীকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তিনি দুর্নীতিবাজ ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী রাজু মিয়া বলেন, ভৈরব বাজার থেকে সুজনকে গ্রেফতার করার পর স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে রাত ৮টার দিকে ৬ জন লোক থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করি। আসামিকে ছাড়তে ওসির দাবিকৃত ৬০ হাজার টাকার মধ্যে জাকিরের মাধ্যমে ওইদিন রাত ১১টায় ওসির রুমেই দেওয়া হয়। কিন্তু ওসি আসামিকে না ছেড়ে চালান করেন। ওসি কথা না রাখায় ঘুষের টাকা ফেরত চান ভুক্তভোগীরা। তখন ওসি জানান, আসামি ছাড়ার জন্য টাকা নেননি, অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট না দেখানোর জন্য নিয়েছে টাকা। শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গা থেকে ওসিকে ফোন করা হলে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে জাকিরের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা সুজনের ভাগনে মুরসালিনের কাছে ফেরত দেন।
ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনে বলেন, ‘এ বিষয়ে সার্কেল স্যার অভিযোগকারী সুজনের পরিবারের সঙ্গে তদন্তর জন্য কথা বলেছেন। পরবর্তীতে স্যারের তদন্ত শেষ হলে আমি বক্তব্য দেব। তবে, তিনি টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
ভৈরব সার্কেলের এএসপি বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করছি।